সাহিত্যে ২০২৬ সালের নোবেল জিতলেন কানাডার অ্যান কারসন
ওয়েভ ওয়ার্ল্ড
০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:৩২
ধ্রুপদি ঐতিহ্য ও সমকালীন সাহিত্যের মেলবন্ধনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সুইডিশ একাডেমি এই ঘোষণা দেয়। —ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কারসন। ধ্রুপদি সাহিত্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যে নতুন ধারা তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
তাঁর সাহিত্যকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—শব্দের উৎপত্তি ও ইতিহাস নিয়ে গভীর অনুসন্ধান আর নতুন অর্থ খোঁজার চেষ্টা। শব্দের ব্যুৎপত্তিকেই তিনি নিজের সব কাজের শুরুর জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
অ্যান কারসনের পুরো নাম অ্যান প্যাট্রিসিয়া কারসন। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ২১ জুন ১৯৫০ সালে, কানাডার টরন্টো, অন্টারিওতে। তাঁর পুরো কর্মজীবনেই কবিতা লেখা, অনুবাদ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজ একসঙ্গে করেছেন।
প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও ভাষা নিয়ে অ্যান কারসনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাঁর লেখায় প্রাচীন গ্রিক পুরাণ, দর্শন ও আধুনিক মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতির মেলবন্ধন দেখা যায়। কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ—বিভিন্ন সাহিত্যরীতির সীমানা পেরিয়ে তিনি নিজস্ব লেখার ধরন তৈরি করেছেন। ধ্রুপদি সাহিত্যের উপাদানকে নতুনভাবে ব্যবহার করে সমকালীন সাহিত্যে ভিন্নধর্মী প্রকাশভঙ্গি তৈরির জন্য তিনি পরিচিত।
অ্যান কারসনের উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরোস দ্য বিটারসুইট (১৯৮৬), অটোবায়োগ্রাফি অব রেড (১৯৯৮), দ্য বিউটি অব দ্য হাসবেন্ড (২০০১) ও নক্স (২০১০)। বইয়ে প্রেম ও আকাঙ্ক্ষার অনুভূতি নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। অটোগ্রাফি অব রেড গ্রিক পুরাণের কাহিনি অবলম্বনে লেখা একটি উপন্যাস-কবিতা। আর নক্স বইটি তাঁর প্রয়াত ভাইয়ের স্মৃতিকে ঘিরে তৈরি ব্যতিক্রমী শোকগাঁথা।
সাহিত্যে অবদানের জন্য অ্যান কারসন ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ ও টি. এস. এলিয়ট প্রাইজসহ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন। ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যে তাঁর স্বতন্ত্র ও উদ্ভাবনী কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলল।
রীতি অনুযায়ী, আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্টকহোমে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৬ সালের সাহিত্যের এই নোবেলজয়ীর হাতে মেডেল ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়া হবে।
রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি ১৯০১ সাল থেকে প্রতিবছর বিজ্ঞান, শান্তি ও সাহিত্যে অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার প্রদান করে। সুইডিশ বিজ্ঞানী ও ডিনামাইটের উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুর পাঁচ বছর পর থেকে তাঁর নামে এবং রেখে যাওয়া অর্থে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
মূল নোবেল পুরস্কারের তালিকায় অর্থনীতি ছিল না। সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (Sveriges Riksbank) তাদের ৩০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৯৬৮ সালে আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে এই পুরস্কারটি প্রবর্তন করে এবং ১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতো অর্থনীতিতে নোবেল প্রদান করা হয়।