যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডব: অন্তত ৪ জনের মৃত্যু
ওয়েভ ওয়ার্ল্ড
১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫২
—ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ঝড়টি উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও টর্নেডোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের উপসাগরীয় উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়টি। খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে ফ্লোরিডার পর্যটনকেন্দ্র ডেস্টিনের কাছে দ্বিতীয় ক্যাটাগরির হারিকেন হিসেবে উপকূলে আছড়ে পড়ে ইসাইয়াস। এ সময় ঝড়টির বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬৫ কিলোমিটার। তবে রাতে ঝড়টির তীব্রতা কমে আসে।
ঐতিহাসিক শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে ধীরগতির আটলান্টিক ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে এটিই ছিল প্রথম হারিকেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা প্রথম হারিকেন এটি।
ডেস্টিনের কাছের উপকূলীয় এলাকা মেরি ইস্টারে বসবাসকারী ম্যাট হাওয়ার্ড বলেন, উপকূলে আঘাত হানার আগেই ঝড়টির শক্তি কমে যাওয়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন।
ঝড়ে তাঁর বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রতিবেশীর ধাতব তৈরি একটি ছোট ঘর উড়ে এসে তার বাড়ির পেছনের উঠানে পড়ে। তবে সব মিলিয়ে তারা নিরাপদে ছিলেন বলে জানান তিনি।
হাওয়ার্ড বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “আমরা বাড়ির ভেতরে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিলাম এবং এ ধরনের পরিস্থিতিতে যা যা করা উচিত, সবই করেছি। সৌভাগ্যক্রমে শেষ পর্যন্ত আমরা নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছি।”
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ের কারণে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ায়। একজন ফ্লোরিডার পেনসাকোলার কাছে ও অন্যজন আলাবামার বার্মিংহামে মারা যান।
বিভিন্ন বার্তা সংস্থার সাংবাদিকেরা বিভিন্ন এলাকায় উল্টে যাওয়া যানবাহন, উপড়ে পড়া গাছ, ছিঁড়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার ও ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বহু ভবন দেখতে পেয়েছেন।
ঝড় আঘাত হানার আগে কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলকভাবে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর উপকূলীয় এলাকার সড়কগুলো প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস শনিবার বিকেলে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সতর্ক করে বলেন, ঝড়টি অতিক্রম করলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি।
তিনি বলেন, “বাইরে চলাফেরার সময় সতর্ক থাকুন। ছিঁড়ে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তার, জমে থাকা পানি—এ সবই অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। বাড়ির ভেতরে বা গ্যারেজে কখনো জেনারেটর চালাবেন না।”
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গভর্নরের এ সতর্কতার আগে শনিবার ফ্লোরিডায় এক ব্যক্তিকে তার গ্যারেজে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় গ্যারেজের জেনারেটর চালু ছিল।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের তথ্য পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট পাওয়ারআউটেজ ডটকমের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার রাতে ঝড়ের গতিপথে থাকা ফ্লোরিডা, আলাবামা ও জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে পাঁচ লাখেরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড়ের প্রভাব মোকাবিলা ও জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট ঠেকাতে দেশটির জ্বালানি বিভাগ শনিবার কৌশলগত মজুত থেকে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছে। অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্রের তেল পরিশোধন শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
ঝড়টি উত্তর দিকে ও অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা রয়ে গেছে। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার সতর্ক করেছে, কিছু এলাকায় ২৫ সেন্টিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, দক্ষিণ অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালা অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
উত্তর ক্যারোলাইনার পাহাড়ি এলাকাগুলো নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ, ২০২৪ সালে আঘাত হানা হারিকেন হেলেনের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এখনো চেষ্টা করছে সেখানকার জনপদগুলো।
হেলেনও ইসাইয়াসের মতো ফ্লোরিডার একই অঞ্চলে উপকূলে আঘাত হেনেছিল। তবে উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের শক্তিতে নেমে আসে। তা সত্ত্বেও প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয় ও ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ঘটে।