ভারতের অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা হারমানপ্রীত কৌরের
ওয়েভ স্পোর্টস
০৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩:০৭
ভারতের নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছেন হারমানপ্রীত কৌর। তিনি সব ফরম্যাটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছেন হারমানপ্রীত কৌর। তিনি সব ফরম্যাটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে একটি বড় যুগের সমাপ্তি ঘটল। এই যুগে ভারত অনেক ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে। দল ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছে। এশিয়ান গেমসে সোনাও এসেছে। এবার নেতৃত্বে আসতে পারেন দীর্ঘদিনের সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা।
অধিনায়কত্ব ছাড়ায় হারমানপ্রীতের কাঁধ থেকে কৌশলের চাপ কমবে। তিনি এখন নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মন দিতে পারবেন। আসন্ন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আগে নতুন কৌশলে দাঁড়ানোর জন্য দলও যথেষ্ট সময় পাবে।
এই ঘোষণা এসেছে গুয়াহাটিতে বিসিসিআইয়ের একটি পর্যালোচনা সভার পর। সভায় গত কয়েক মাসের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতের পথ নিয়েও কথা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। উপস্থিত ছিলেন হারমানপ্রীত, সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা ও প্রধান কোচ অমল মজুমদার।
সভায় হারমানপ্রীতকে এই সিদ্ধান্তের জন্য রাজি করানো হয়েছিল কি না, তা জানা যায়নি। তবে সিদ্ধান্তের সময় নিয়ে ক্রিকেটমহলে নানা জল্পনা চলছে।
সামাজিক মাধ্যমে একটি লম্বা পোস্টে হারমানপ্রীত নিজের কথা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। তবে সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন। বছরের পর বছর তিনি জাতীয় দলকে সবকিছু দিয়েছেন। ২০১৬ সালে তিনি প্রথমবার ভারতের অধিনায়কের দায়িত্ব নেন। তার আগে তিনি অস্থায়ীভাবে এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পোস্টে হারমানপ্রীত লিখেছেন, “আজ আমি ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের সব ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিচ্ছি। এটা সহজ সিদ্ধান্ত নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু বছরের স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ আর এমন কিছু মুহূর্ত, যা আমার সারা জীবন সঙ্গে থাকবে।”
তিনি আরও লিখেছেন, “আমার যা ছিল, সব আমি এই দলকে আর ভারতের নারী ক্রিকেটকে দিয়েছি। আমার রক্ত, আমার ঘাম, আমার সময় দিয়েছি। অনেক সময় নিজের খেলার একটি অংশ আর ব্যক্তিগত স্বপ্নও দিয়েছি। কিছু মুহূর্তে নিজের পারফরম্যান্স, নিজের বেড়ে ওঠা আর নিজের চাওয়াকে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। কারণ আমি বিশ্বাস করতাম, দলই সবার আগে।”
হারমানপ্রীতের নেতৃত্ব নিয়ে বহুদিন ধরেই তুমুল বিতর্ক চলছিল। অনেক সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষক বলেছিলেন, এবার স্মৃতি মান্ধানার হাতে দায়িত্ব দেওয়ার সময় এসেছে। খেলায় জয়-পরাজয় থাকেই। তবু হারমানপ্রীতের অধিনায়ক হিসেবে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাটার হিসেবে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়েও কথা হয়েছে। তবে নিজের পোস্টে তিনি বলেছেন, প্রতিটি সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন শুধু দলের ভালোর কথা ভেবে।
তিনি লিখেছেন, “অধিনায়ক হিসেবে আমাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সেসব সিদ্ধান্ত সব সময় সবাই বোঝেনি। সেগুলো সব সময় সহজও ছিল না। কখনো কখনো এর জন্য আমাকে ব্যক্তিগত মূল্য দিতে হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে একটাই উদ্দেশ্য ছিল।
দলটাকে আরও ভালো করা। অন্য খেলোয়াড়দের বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া। তাঁরা যেন নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেন আর নিজেদের সেরা রূপে পৌঁছাতে পারেন।”