অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই
ওয়েভ রিপোর্ট
০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪০
অভিনেতা ও নির্মাতা নানা পাটেকার। ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা ও নির্মাতা নানা পাটেকার (আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকর) আর নেই। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার ডোনা পাউলার নিজ বাসভবনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ভোরে বাসভবনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন নানা পাটেকার। পরে দ্রুত তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর সাড়া দেননি তিনি। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নানা পাটেকারের মৃত্যু ভারতীয় চলচ্চিত্রের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের আকস্মিক সমাপ্তি। হিন্দি ও মারাঠি—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই নিজের অভিনয়ের স্বাতন্ত্র্য রেখে গেছেন তিনি। তীব্র অভিব্যক্তি, সংলাপ বলার নিজস্ব ধরন এবং চরিত্রের গভীরে ঢুকে যাওয়ার ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।
১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় পথচলা শুরু করেন নানা পাটেকার। পরবর্তী সময়ে ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘আব তাক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) এবং ‘ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১’ (২০০৬) সিনেমায় তাঁর দুর্দান্ত অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। বাণিজ্যিক ধারার কমেডি ছবি ‘ওয়েলকাম’ (২০০৭) এবং এর সিক্যুয়াল ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এ গ্যাংস্টার ‘উদয় শেঠি’ চরিত্রে অভিনয় করে সিনেপ্রেমীদের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন তিনি।
অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।
একটি প্রজন্মের দর্শকের কাছে নানা পাটেকার আরও বেশি স্মরণীয় ‘ওয়েলকাম’ সিনেমার উদয় শেঠি চরিত্রের জন্য। ২০০৭ সালের সেই সিনেমায় তাঁর সংলাপ, অঙ্গভঙ্গি ও অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’-এও একই চরিত্রে ফিরে এসেছিলেন তিনি।
এ ছাড়া জনপ্রিয় রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ (২০১০) সিনেমায় দুর্দান্ত পার্শ্ব চরিত্রের জন্য পঞ্চমবারের মতো ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার মনোনয়ন পান তিনি। পরে ২০১৬ সালে সাড়া জাগানো মারাঠি ছবি ‘নটসম্রাট’-এ অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার মারাঠি সেরা অভিনেতার পুরস্কার জয় করেন নানা পাটেকার। পরবর্তীতে কমেডি থ্রিলার ‘হাউসফুল ৫’ চলচ্চিত্রেও পার্শ্ব চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
শুধু অভিনয়েই থেমে থাকেননি নানা পাটেকার। চলচ্চিত্র নির্মাণ ও লেখালেখিতেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি এমন সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেগুলো ভারতীয় সিনেমার দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীত জগতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন এই বহুমুখী অভিনেতা। ‘যশোবন্ত’ (১৯৯৭), ‘ওয়াজুদ’ (১৯৯৮) এবং ‘আঁচ’ (২০০৩) সিনেমায় নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী (প্লেব্যাক) হিসেবে গান গেয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি।
তাঁর চলে যাওয়ার খবরে শোকস্তব্ধ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গন। সহকর্মী, ভক্ত ও সিনেমাপ্রেমীদের কাছে নানা পাটেকারের মৃত্যু শুধু একজন অভিনেতার বিদায় নয়, বরং পর্দার এক স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীরও সমাপ্তি।