পর্যটকের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, নেপালে আটক তমাল


ওয়েভ রিপোর্ট

ওয়েভ রিপোর্ট

০৮ জুন, ২০২৬, ০০:০০

পর্যটকের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, নেপালে আটক তমাল

নেপালে এক মালয়েশিয়ান নারী পর্যটকের গোসলের সময় গোপনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক বাংলাদেশি পর্বতারোহীকে আটক করেছে নেপাল পুলিশ।

 

অভিযুক্তের নাম তৌফিক আহমেদ তমাল। তিনি বর্তমানে নেপাল পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

অভিযোগকারী মালয়েশিয়ার নাগরিক নুরধিয়া ইজিয়ান বিনতি মোহদ রাদজা। তাঁর দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে নেপালের কাস্কি জেলার মচ্ছাপুচ্ছ্রে গ্রামীণ পৌরসভার একটি হোটেলে গোসলরত অবস্থায় তাঁর অনুমতি ছাড়া গোপনে আপত্তিকর ছবি ধারণ করা হয়।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিষয়টি টের পাওয়ার পর তিনি অভিযুক্ত তমালকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাঁর মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে নিজের আপত্তিকর ছবি দেখতে পান বলে দাবি করেন ওই নারী পর্যটক।

 

শুধু তাই নয়, অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিযুক্ত তাঁর প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন।

 

ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগটি নেপালের ‘মুলুকি ক্রিমিনাল কোড ২০৭৪’ বা ‘ন্যাশনাল পেনাল কোড অ্যাক্ট ২০১৭’-এর অধ্যায় ১০-এর ধারা ১১৮-এর আওতায় গ্রহণ করা হয়েছে।

 

অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, একই হোটেলে এর আগেও তার গোসলের সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল বলে তিনি সন্দেহ করেন। অভিযুক্তের মোবাইল ফোনে থাকা ভিডিও ফুটেজকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন অভিযোগকারী ওই নারী পর্যটক।

 

অভিযোগপত্রে তৌফিক আহমেদ তমালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, তাকে হেফাজতে রেখে তদন্ত পরিচালনা এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

 

অভিযুক্ত তৌফিক আহমেদ তমাল ‘অলটিটিউড হান্টার বিডি মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাব’-এর সদস্য হিসেবে পরিচিত। তার বেড়ে ওঠা কুমিল্লায়। তিনি ২০১৭ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

 

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকজন বাংলাদেশি নারী ট্রেকার অতীতে অভিযুক্তের নেতৃত্বে বিভিন্ন ট্রেকিং ও ভ্রমণে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে তৌফিক আহমেদ তমালের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। নেপাল পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট আদালতের পক্ষ থেকেও মামলার অগ্রগতি নিয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

 

উল্লেখ্য, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর নির্ভর করছে।

Share this article

https://mail.thewave24.com/view/712/news

© 2026 TheWave24. All rights reserved.