তিন বছর পর মাঠে ফিরছে ফিলিস্তিন ফুটবল লিগ
ওয়েভ স্পোর্টস
১১ আগস্ট, ২০২৬
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সোমবার (১০ অগাস্ট) জানিয়েছে, তাঁরা সেপ্টেম্বরে খেলা শুরু করতে প্রস্তুত। রামাল্লায় এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জিবরিল রাজউব বলেন, ‘আমরা ঘোষণা করছি, ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ক্রীড়া কার্যক্রম এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের লিগ আবার শুরু হবে।’ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে ফিলিস্তিনের পেশাদার ফুটবলসহ সব ক্রীড়া লিগ বন্ধ হয়ে যায়। গাজা যুদ্ধের কারণে প্রায় তিন বছর ধরে সব খেলাই বন্ধ ছিল।
অ্যাসোসিয়েশন প্রথম টুর্নামেন্টটির নাম দিয়েছে ‘থাউজেন্ড মার্টায়ার্স কাপ’। অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে ইসরায়েলের হামলায় ১ হাজার ১৪ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ প্রাণ হারান। তাঁদের স্মরণেই এই নামকরণ করা হয়েছে।
এই টুর্নামেন্টে দুইশর বেশি ক্লাব অংশ নেবে। এর মধ্যে ইসরায়েল দখলকৃত পশ্চিম তীর থেকে অংশ নেবে ১৪৬টি ক্লাব। গাজা থেকে অংশ নেবে ৪৪টি ক্লাব। আর লেবাননের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির থেকে অংশ নেবে ৩৬টি ক্লাব। টুর্নামেন্টটি এই তিন জায়গায় একই সঙ্গে শুরু হবে।
রাজউব বলেন, ‘যুদ্ধ সব ফিলিস্তিনির জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার ফলে আমাদের প্রতিযোগিতা এবং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আমরা ফিলিস্তিনি জাতীয় ইচ্ছাশক্তি হারাইনি। আমরা বিশ্বাস হারাইনি যে খেলাধুলা আশা এবং জীবনের প্রতীক হয়েই থাকবে।’
রাজউব জানান, অ্যাসোসিয়েশন এবং ফিলিস্তিনি ক্লাবগুলো কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ফিফা এবং অন্যান্য ফেডারেশনকে ফিলিস্তিনি ক্রীড়ার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি খেলোয়াড়, ক্লাব এবং শিশুদের ‘স্বাধীনতা এবং মর্যাদার’ সঙ্গে খেলাধুলা উপভোগের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানান।
ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর প্রত্যাহার করা এক পরিকল্পনা নিয়ে অ্যাসোসিয়েশন আগেই এক বিবৃতি দিয়েছিল। সেই পরিকল্পনায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য টুর্নামেন্ট খুলে দেওয়ার কথা ছিল। বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, “আজ অনেকেই ফিফার বাণিজ্যিক দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
তাঁরা আরও বলেন, “তবে ফিলিস্তিনের জন্য বিষয়টি আরও মৌলিক... আমাদের প্রশ্ন হলো – ফিফার কি এখনো সবার জন্য সমানভাবে নিয়ম প্রয়োগের সাহস আছে... রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না-করে।
অ্যাসোসিয়েশন ফিফার কাছে দাবি জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের বসতিতে পরিচালিত ইসরায়েলি ক্লাবগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হোক। পাশাপাশি, গাজায় ইসরায়েলের আচরণের কারণে ইসরায়েলের ফিফা সদস্যপদ স্থগিত করার দাবিও জানানো হয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি অবৈধ।