বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ
ওয়েভ রিপোর্ট
১০ আগস্ট, ২০২৬
বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে কৃষি প্রযুক্তি, দুগ্ধশিল্প, সবুজ জ্বালানি, ওষুধ, চামড়া, পাট, পরিবেশবান্ধব বস্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ (এনজেডটিই)-এর কর্মকর্তার সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব খাতে যৌথ বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এনজেডটিই’র দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়াবিষয়ক বাজার ব্যবস্থাপক র্যাচেল ম্যাকগাকিয়ানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন – যুগ্মসচিব (এফটিএ) মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও উপসচিব (এফটিএ) ফারহানা ইসলাম।
বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বর্তমানে বছরে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। এর মধ্যে, নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশের আমদানিতে দুগ্ধজাত ও ধাতব পণ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে। বিপরীতে, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার – যার বড় অংশ তৈরি পোশাকনির্ভর।
বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করতে বাংলাদেশের অ-পোশাক পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি করতে নিউজিল্যান্ডের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, ওষুধ, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, টেকসই বস্ত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিউজিল্যান্ডের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়, দেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিভিন্ন সনদ ও উৎপাদন-ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ফলে, নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যখাতে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন সাধারণ ওষুধ ও টিকা সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের ৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীর দক্ষতার কথাও তুলে ধরা হয়। এই দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সফটওয়্যার, আর্থিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা খাতে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশেষায়িত পুষ্টিপণ্য, শীতল সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষি প্রযুক্তি, আধুনিক উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিভিন্ন বিনিয়োগ-সুবিধা রয়েছে। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বাজারেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে দ্রুত কার্যকর করতে তিনটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে – এনজেডটিই’র দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া দলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)’র সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, বাংলাদেশি ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি ও চামড়া খাতের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়িক ক্রেতাদের ভার্চুয়াল বৈঠক আয়োজন এবং নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও কার্যকর করা।
এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়ী পরিষদ প্রতিষ্ঠা এবং বাণিজ্য মেলা আয়োজন ও তাতে অংশগ্রহণের বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশের বৃহৎ বাজার ও উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানির সক্ষমতার সমন্বয় দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারে বলে বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয়।