ইরান-ওমান চুক্তিতেও খুলবে না হরমুজ প্রণালি!
ওয়েভ ওয়ার্ল্ড
০৯ আগস্ট, ২০২৬
ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। তবে দেশটি গত শনিবার (৮ অগাস্ট) জানায়, এই চুক্তির সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ফের খুলে দেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই । খবর রয়টার্সের।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জানায়, ইরান হরমুজ প্রণালিতে আরেকটি জাহাজে আঘাত হেনেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা গত শুক্রবার জানিয়েছেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে শিগগিরই একটি চুক্তির প্রত্যাশা করছে ওয়াশিংটন – যাতে প্রণালিটি দিয়ে স্বাভাবিক জ্বালানি পরিবহন ফের শুরু হতে পারে। সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি বৃহত্তর চুক্তির ক্ষেত্রে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ে ইরান ও ওমানের সমঝোতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের একটি নতুন পথ নিয়ে ইরান ও ওমান চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ রয়েছে। সমুদ্রপথটি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়সহ অন্যান্য শর্তের ওপর নির্ভর করছে।
আরাগচি আরও বলেন, ‘প্রণালিটির মধ্য দিয়ে আগের জাহাজ চলাচল পৃথককরণ ব্যবস্থা তেহরানের কাছে আর গ্রহণযোগ্য ছিল-না। একটি স্থায়ী রুটকে কেন্দ্র করে কারিগরি ও আইনি বিষয়গুলো সুরাহা করার সময় ইরান ওমানের সঙ্গে একটি অস্থায়ী রুট নিয়ে আলোচনা করেছিল।’
গত শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাঁদের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় সেটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। এ-বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ইরানের গণমাধ্যম সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে প্রতিবেদন করলেও এই আক্রমণের জন্য ইরানকে যে-দায়ী করা হয়েছে, সেই অংশটি এড়িয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যে-যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, তা অবসানে একটি বৃহত্তর চুক্তি জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। আর সেই চুক্তির অংশ হিসেবেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যকার সমঝোতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই যুদ্ধের কারণেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই নৌপথটিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তেহরান।