বিমানবন্দরে সবার জন্য সমান নিরাপত্তা তল্লাশি: বিমান মন্ত্রী


ওয়েভ রিপোর্ট

ওয়েভ রিপোর্ট

০৬ আগস্ট, ২০২৬

বিমানবন্দরে সবার জন্য সমান নিরাপত্তা তল্লাশি: বিমান মন্ত্রী

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, ভিআইপি ও সিআইপিসহ সবার ক্ষেত্রে বিমান চলাচল-নিরাপত্তাবিধি সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি থেকে কাউকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে-না। তিনি বৃহস্পতিবার (৬ অগাস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ক্যাব)-এর সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি (এনসিএসসি)’র প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ-কথা বলেন। মন্ত্রী বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তাবিষয়ক দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও সমন্বয়কারী সংস্থা এনসিএসসি’র ত্রয়োদশ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

 

বাংলাদেশের আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও)’র নিরাপত্তা নিরীক্ষার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নিরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি সম্পৃক্ত। তিনি যেসব ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেসব বিষয়ে আইসিএও’র মানদণ্ড শতভাগ অনুসরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দেন।

 

আফরোজা খানম আরও বলেন, যাত্রীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। মন্ত্রী বিশেষ করে, প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রীদের সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে সরকার অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপন করবে। তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর পর এনসিএসসি’র সভা হয়েছে। তাই এর সিদ্ধান্তগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে।

 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা-কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় স্ক্যানারসহ নিরাপত্তা-সরঞ্জাম সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি বিমান চলাচল নিরাপত্তা-আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

সভায় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা-ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল – বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা-কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আইসিএও’র নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা-চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ।

 

কমিটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম (ইউভিএসএস)-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা ও সংকট-ব্যবস্থাপনা জোরদারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

 

এছাড়া, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অননুমোদিত জনসমাগম, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অবৈধ লাগেজ মোড়ানোর কার্যক্রম প্রতিরোধে ক্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার, বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করা হয়।

 

কমিটি যাত্রীসেবা উন্নত করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করেছে।

Share this article

https://mail.thewave24.com/view/1494/news

© 2026 TheWave24. All rights reserved.