ডাকটিকিটে বিশ্বকাপ: বিস্ময় ছড়াচ্ছেন সারিন কুমার
আরিয়ান রোমান
১১ জুলাই, ২০২৬
প্রায় এক লাখ ডাকটিকিটে সাজানো হয়েছে পুরো ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাস। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও — এটাই সত্যি। ভারতের কেরালার বাসিন্দা সারিন কুমার প্রায় এক শতাব্দীর ফিফা বিশ্বকাপের স্মৃতি ধরে রেখেছেন ছোট ছোট ডাকটিকিটে। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত অসংখ্য স্মারক ডাকটিকিট।
সারিন কুমারের সংগ্রহে রয়েছে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ, চ্যাম্পিয়ন দল এবং ফুটবলপ্রেমী বিভিন্ন দেশের প্রকাশিত স্মারক ডাকটিকিট। তাঁর সংগ্রহে স্থান পেয়েছে উরুগুয়ের প্রথম বিশ্বকাপ জয়, ইতালির সোনালি সময় এবং আর্জেন্টিনার সর্বশেষ (২০২২) বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতিও।
তবে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ একটি মাত্র ডাকটিকিট; যেটি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক। এই একটি ডাকটিকিটের জন্য তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় চার বছর। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের আর্জেন্টিনা থেকে সেটি যখন তাঁর হাতে পৌঁছায়, তখন সেই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো ছিল-না। এত দীর্ঘ অপেক্ষার পরে নিজের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলেই মনে করেন তিনি।
সারিন কুমার জানান, এখন ডাকটিকিট সংগ্রহ করা আগের চেয়ে অনেক কঠিন। ডাক ব্যবহারের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় নতুন সংগ্রহ পাওয়া সহজ নয়। আবার লিওনেল মেসিকে নিয়ে প্রকাশিত ডাকটিকিটও খুব সীমিত। বিভিন্ন দেশে সেগুলো প্রকাশিত হলেও সংগ্রহ করতে দরকার হয় — দীর্ঘ যোগাযোগ, ধৈর্য এবং অনেক অপেক্ষা। তাই প্রতিটি ডাকটিকিট তাঁর কাছে অমূল্য সম্পদ।
তাঁর এই সংগ্রহের যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র আট বছর বয়সে। তিনি প্রথমে মহাত্মা গান্ধীর ডাকটিকিট সংগ্রহ করতেন। সেই ছোট্ট শখই একদিন রূপ নেয় প্রায় এক লাখ ডাকটিকিটের বিশাল সংগ্রহে। আজ তাঁর সংগ্রহ শুধু একটি শখই নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাস সংরক্ষণের এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
ফুটবলকে ভালোবাসার অনেক রূপ আছে। কেউ প্রিয় দলের জার্সি সংগ্রহ করেন, কেউ মাঠে গিয়ে খেলা দেখেন, আবার কেউ প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি জমিয়ে রাখেন। কিন্তু সারিন কুমার দেখিয়ে দিলেন — একটি ছোট্ট ডাকটিকিটও ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে। আর সেই ভালোবাসাই তাঁকে বিশ্বফুটবলের এক অনন্য সংগ্রাহকে পরিণত করেছে।